প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ, কারণ জানালেন দুজন
সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল–অভিনেত্রী ও গায়িকা শেহতাজ মনিরা হাশেম তাঁদের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু বড় পার্থক্যের কারণে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। ৪ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান দুজনই।
পারস্পরিক বোঝাপড়ার পার্থক্যই কারণ
প্রীতম হাসান তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে পথচলার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার জন্য দুজনই কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা থাকবে বলে জানান তিনি।
বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রীতম বলেন, সময়ের সঙ্গে তাঁরা উপলব্ধি করেছেন যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু বড় পার্থক্যের কারণে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই দুজনের জন্য ভালো হবে। অর্থাৎ, তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নয়, বরং সময়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া বোঝাপড়ার পার্থক্যই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
শেহতাজ মনিরা হাশেমও তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় এক দশকের পথচলার পর পারস্পরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে তাঁদের বিবাহিত জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রীতমের প্রতি তাঁর সম্মান ও শুভকামনা থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হঠাৎ নেওয়া হয়নি সিদ্ধান্ত
প্রীতমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা, অনেক ভেবেচিন্তে এবং পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
শেহতাজও জানিয়েছেন, পরিবারের সমর্থন নিয়েই তাঁরা এই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। দুজনের বক্তব্যেই বিষয়টি পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন জল্পনা বা অনুমানকে তাঁদের বিচ্ছেদের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে তাঁদের নিজেদের প্রকাশ্য বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, ঘটনা বা অভিযোগের কথা বলা হয়নি। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে প্রীতমের ব্যস্ততা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য এসেছে, তবে সেগুলো নিশ্চিত তথ্য নয়।
২০১৭ সালে ‘জাদুকর’ থেকে সম্পর্কের শুরু
প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের পরিচয় হয় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে। ২০১৭ সালে প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে শেহতাজ মডেল হিসেবে কাজ করেন। ওই কাজের সময় তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে সম্পর্কটি প্রেমে রূপ নেয়।
বিয়ের আগে প্রায় পাঁচ বছর তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২২ সালে তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। বিয়ের আয়োজন করা হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ২৯ অক্টোবর তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বিয়ের আগে শেহতাজ জানিয়েছিলেন, তাঁরা শুরু থেকেই একটি ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের কথা ভেবেছিলেন। দেশের বাইরে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে দেশের মধ্যেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলকে বিয়ের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
বিয়ের পরও একসঙ্গে দেখা গেছে তাঁদের
বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রীতম ও শেহতাজ তাঁদের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও ছিল আগ্রহ।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও সংগীতশিল্পী জেফার রহমান ও উপস্থাপক রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রীতম ও শেহতাজকে একসঙ্গে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। বর্তমান সময়ে এসে দুজনের পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যে তাঁরা দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অনুরোধ
বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি প্রীতম ও শেহতাজ দুজনই তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
জীবনের এই পরিবর্তনের সময়ে বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যম যেন বিষয়টি সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে বিবেচনা করেন—এমন অনুরোধ করেছেন তাঁরা।
তারকা দম্পতি হিসেবে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে দুজনের প্রকাশ্য বক্তব্যে যেহেতু বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা ঘটনার উল্লেখ নেই, তাই অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানোর বদলে তাঁদের নিজেদের বক্তব্যকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
প্রীতম ও শেহতাজের সম্পর্কের শুরু হয়েছিল কাজের জায়গা থেকে। ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে পরিচয়, এরপর প্রেম এবং পাঁচ বছর পর বিয়ের মধ্য দিয়ে তাঁদের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছায়। বিয়ের পর প্রায় চার বছর তাঁরা সংসার করেছেন। সব মিলিয়ে পরিচয় থেকে দাম্পত্যজীবন পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কের সময়কাল প্রায় এক দশক।
এখন সেই দীর্ঘ পথচলার পর তাঁরা আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুজনের বক্তব্যে পারস্পরিক সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনার বিষয়টি স্পষ্ট। তাই তাঁদের ঘোষণাকে কেবল বিচ্ছেদের খবর হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে তাঁদের পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে যে তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, তা হলো—সময় গড়ানোর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু বড় পার্থক্য তৈরি হওয়া এবং সেই কারণে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াকে দুজনের জন্য ভালো মনে করা। এর বাইরে ছড়িয়ে পড়া কোনো গুঞ্জন বা অনুমানকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।
আরও পড়ুন
৯ মাসে আলোচিত তারকা বিচ্ছেদ: তাহসান থেকে প্রীতম–শেহতাজ


0 মন্তব্যসমূহ